Wednesday, 9 May 2012

কৃষ্ণগহ্বর


কৃষ্ণগহ্বরের দিকে পুনর্যাত্রা দুখি মানুষের
যদিওবা কয়েকপা হেঁটেছিল দূর সংগবদ্ধ
রক্তের সিঁড়িতে পা আটকে আবার পিছুহটা
এ রক্তক্ষরন তো নীরব, দু'দশকের সরব শীত
দিয়েছে নিদান, নিরানব্বই শতাংশের রক্ত ঘাম
গড়ে দেবে পৃথিবী কুলীন ,মননের সীমানায়
ঘাটি গাড়ে স্থবির বিকেল ,সুর্যোদয়ের আকাশ আজ
বিবর্ন বিহ্বল, সারিবদ্ধ পঙ্গপালের নিভৃত চারনভুমি ।

প্রকৃতির তীব্র ঘৃণা শূন্যতার প্রতি 
রাতের অবিশ্রান্ত পরিক্রমাই উজ্জ্বল দিনের উল্লাস ।
~~~~~~~~~~~~

Saturday, 28 April 2012

বিষকন্যা

সুজাতার পরমান্ন ভাণ্ডে ঢেলে দেব
একফোঁটা বিষ
যেমন গাছের গোঁড়ায় পেরেক কিংবা হিং
কঙ্কাল গাছের সারি ঠায় দাঁড়িয়ে
করাতের অপেক্ষায় ।

আমি তো বিষকন্যা ।

সমস্ত অপকথা গায়ে মেখে
উদোম দাঁড়িয়ে থাকব পেরেক বুকে ।
· · 8 minutes ago ·



Friday, 6 April 2012

অনাস্থার ইতরতা

মুখে কাপড় গুঁজে দিলেই কি আস্থার শেকড় গজায় ,শব্দ ব্রহ্ম মেঘের উর্মিমালা বিশ্বাসের গোঁড়ায় জল , কাকের পরিভাষায়ও কোন ইতরতা নেই ,শুধু নিজের চারপাশে বেড়ে ওঠা আরশিনগরে জল সিঞ্চন , তাতে নিজের মধ্যে জেগে ওঠে এক মৎসকন্যা, সে জল বলয় বিচ্ছুরিত আলোর পলাশ রেনু ,শব্দের নিস্তব্ধতায় ক্লান্ত বা অসত্যের মাপকাঠি , আরশিতে পড়শি যাপন কখনই ইতরতার বিকল্প নয় ,মননে লক্ষ্মীন্দরের বাসর ঘর , কলার মান্দাসে বেউলোর অন্তহীন যাত্রা অব্যাহত ।

Thursday, 5 April 2012

নোনাডাঙ্গায় বাতাসের আগে আগুন ছোটে
ইলেকট্রিকের অস্তিত্বহীন তারগুলো একলা
এখানে ওখানে ঘাড় উল্টে পড়ে জল বিন মাছ
সরসর শব্দে বাতাস একা একা হাঁটে  হ্যাংলা
ডাঙ্গায় ,খবর চুপিসাড়ে জানান দিয়ে যায়
আজ রাতে বিলাই বিলাইয়ের মাংসে থাবা ,
ঘাড় ও মটকে দিতে পারে, সচেতন বায়সেরা
আয়েশে বসে  মাংস চিবায়; তারহীন বার্তালাপে
জালিয়াতি কথোপকথন জারি,আত্মতৃপ্তির
চোঁয়া ঢেকুরে আগ্রাসী স্নান,অতঃপর তিলমাত্র
আঘাত চিহ্ন বহির্ভুত পরিব্যপ্ত পাখির চোখ
দু পেগ বিপ্লবে আস্থা রেখে কলিযুগ শানায় ,
সংজ্ঞা সব কিছুরই বদলেছে'ধর্মের'ও'জিরাফের'ও ।

              

Friday, 30 March 2012

আড়কাঠি


                                                         কালিম্পং ,দার্জিলিং পাহাড়েপাহাড়ে
                                                          চোখে চোখ ঠিকরায় ঘৃণার আবর্ত

                                                 বিভেদের কুনাট্যে পায়ে কুড়ুল,
                                                  ভাঙ্গ ও খেলিয়ে যাও , সাহেব
                                                  সুবোর ফেলে যাওয়া জুতোয় পা ,
                                                   ঠাট মেরে যতটুকু আটাতে চাও
                                                   খাপে খাপ ,বদলাবে না কিছুই
                                                   আরও পাঁচটি লুটেরা জমাটি
                                                    খেলায় পাশার দান সঠিক ঘরে,
                                                    নিমিলিত চোখের সরলতা জানবেও
                                                     না কেমন নিপুণ মাপে বসে যাবে
                                                     লোহার জুতো ,আগুনের ঘেরাটোপে
                                                      বনসাই ভালবাসা ,আমার তোমার
                                                      চোখের মনিতে আড়কাঠি ।
                                    
                                






Sunday, 19 February 2012

লে লে বু ছ'আবানা ...ভ্যালেন্টাইন মারিজুয়ানা

ভ্যালেন্টাইন খুড়ো আসছেন । সে কি আর না জেনে থাকতে পারবে ! প্রথমেই খবরের কাগজ লাফিয়ে পড়বে সাত পাতা জুড়ে ।প্রথম পাতাতে ই লাল লাল হৃদয়পুর আসন বিছিয়ে বসে আছেন । সঙ্গে গহনাগাটি । পিসি  এম পি অঞ্জলি সেনকো সারি সারি নামের বাহার । সোনাতে হচ্ছে না ।এখন হীরে জহরত ছাড়া চলছেই না । কত কুচি কুচি চ্ছটা দিয়ে মনিরত্মম। আমরা জনি এখন ৩-সি নাহলে বৃথাই সত্য যাচাই । ক্যারেট ,কাট ,কালার ।হু হু বাবা ।কম দিগগজ হয়েছি আমরা ! কোথায় কে না খেতে পেয়ে মরেছে ভারি এসে গেল ! চালাও পানসি ভ্যালেন্টাইন । কাগজে বিজ্ঞাপনে আবার চারটি খাপ থাকবে ।প্রথম খোপে হীরে ,তারপর সোনা ,৩য় রুপো ,৪র্থ জাঙ্ক ।তিনি আবার ননী ,সোনার খনি। এরপর কত টাকার কিনলে কত কিছু মু্‌ফ্‌ত । ৪০ হাজার টাকার জিনিষ কিনলেই নাকি একটি  লকেট ফ্রি ।তার এক বিশাল ছবি দেখে আমার বন্ধু হাপাতে হাপাতে হাফ সি এল নিয়ে ছু্টল । পরের দিন দেখলাম মুখ বেজার ।জিজ্ঞেস করলাম হাকু পাকু করতে করতে যে গেলি হিরেমন কে ধরবার জন্যে তা এত মুখ বেজার কেন । বেজায় রেগে গেল ।এত বড়  ছবি দিয়েছে লকেটের এই ত্ত টুকুনি পুচকে একটা লকেট । জোচ্চোর কত গুলো !!তা তুই কি ভেবে ছিলি হরিশচন্দ্র ।গেল। ছোটাছুটি করে হিরে সোনা তো হল। এবার আর্চিস তো তার বাহার নিয়ে বসা ।কার্ড ,হাতের ব্যান্ড ।হ্যানা ত্যানা । চারিদিকে ভ্যালেন্টাইন বিজ্ঞাপনে শহর ছেয়ে আছে । জামকাপড় ,জুতো ,জুয়েলারি । ১৪ ই বিকেল রেস্তোরাতে লাইন ।  মাসের খরচ অবধারিত ভাবে বেশি । ঘরে ঘরে কর্তাদের মন খারাপ । আগে ছিল পুজো -পার্বন । দেয়া থোয়া । উরি স্যাটা এখন তো তিন চারটে উপদ্রব এসে জুটেছে । এরপর অক্ষয় তৃতীয়া । আবার গহনা গাটি । আর আসল ধামাকাতো ধানতেরাস ।তরাসে বুক ধাকড় পাকোড় । তখন ব্যাঙ্ক গুলো ঝাপিয়ে পড়বে । ৪ গ্রাম ,৫ গ্রাম , ১০ গ্রাম। ১৫ গ্রাম , গ্রাম গ্রাম ...।সোনার কয়েন ...কিনুন কিনুন ।সম্পত্তি । দুঃসময়ের সঙ্গি আখেরে কাজ দেবে । ছেলেমেয়েদের বিয়ে শাদি  মসৃণ । সঙ্গে আছে বাসন কেনার হিড়িক । মরন হল মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের ।সরকারিবাবুরা পে কমিশনে যা  দু চার পয়সা পেয়েছেন  কিছুটা  ট্যাক্স ও আর গেল বানিয়াদের গব্বগৃহে । তার জন্যি নতুন নতুন বাহানাবাজি । আই টি ওয়ালারা বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করচেন । তাদের দিকে বানিয়া গোষ্ঠীর শ্যান চক্ষু ।
লে লে বাবু ছয়ানা সঙ্গে মুফতি খানা । তার জন্যে কত বাহানা । মরল ব্যাঙ্গের ছানা ..............................।     

                                         

Friday, 10 February 2012

হত্যা ~~



এটা কি ভালবাসার হত্যা
আমি তোমাকে একটু আগে দিয়েছিলাম
 ভালবাসার স্বাক্ষর
আমায় মারলে জন লেননকে যে ভাবে মারা হয়েছিল


তাহলে হত্যা আর ভালবাসার সম্পর্ক কি ?

মনস্তত্ত্ব না নৃতত্ত্ব
যেমন পণ্ডিত লেভিস্ত্রোচ বলেন ?
ঘটনার বিপ্রতীপ রূপান্তর ?

গভীর মনস্তত্বের বিষয়
ভালবাসা ও ঘৃণা
মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ

দুটোই কিন্তু এক ।
~~~~~
~~~~~
অসমিয়া কবিতা
হত্যা
~~
কিশোর ভট্টাচার্য
এইটু মৰম'ৰ হত্যানে
মই তোমাক অলপ আগতে দিছিলো
ভালপোৱাৰ স্বাক্ষৰ
মোক মাৰিলা যেনেকৈ জন লেননক মাৰিছিল

তেনেহ'লে হত্যা আৰু ভালপোৱাৰ
সম্পর্কটো কি ?
এইটো মনস্তত্ব নে নৃতত্ত্ব
যেনেকুৱা পণ্ডিত লেভিস্ত্রোচে কয়?
ঘটনাৰ বিপ্রতীপ রূপান্তৰনে ?

এইটো গভীৰ মনস্তত্বৰ বিষয়
ভালবাসা ও ঘৃনা
একে মুদ্রাৰ ইপিঠ-সিপিঠ

দু'টা বস্তু কিন্তু একোটাই।
~~~~~~~~~~~~~~~
বাংলা রূপান্তর ~~নান্দিতা ভট্টাচার্য